বালি-সিমেন্টের ঢালাই, ২ জনের মৃ'ত্যুদণ্ড, সন্তানের কথায় বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য...see more

 বালি-সিমেন্টের ঢালাই, ২ জনের মৃ'ত্যুদণ্ড, সন্তানের কথায় বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য....see more

ভারতের উত্তর প্রদেশের মিরাটে মার্চেন্ট নেভির কর্মকর্তা সৌরভ রাজপুতকে হত্যার ঘটনায় তার স্ত্রী মুসকান রাস্তোগি ও স্ত্রীর প্রেমিক সাহিল শুক্লাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন স্থানীয় আদালত। গত বছর এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।


দুই সপ্তাহ আগে মুসকান ও সাহিলকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (১৪ অক্টোবর) তাদের সাজা ঘোষণা করা হয়। কংক্রিটভর্তি নীল প্লাস্টিকের ড্রামটি এ হত্যা মামলার প্রতীক হয়ে ওঠে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচিত হয়।


১২৬টি শুনানি ও ২২ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের পর জেলা বিচারক অরবিন্দ কুমার মিশ্র রায় দেন, সৌরভ রাজপুতকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিলেন মুসকান রাস্তোগি ও সাহিল শুক্লা। পরে তার খণ্ডবিখণ্ড মরদেহ বালু ও কংক্রিট দিয়ে ভরা একটি নীল শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত ড্রামের মধ্যে লুকিয়ে রাখেন। বিচারক মন্তব্য করেছিলেন, এ ধরনের অপরাধ পুরো সমাজে আতঙ্ক তৈরি করে।


বুধবার সকালে মুসকান রাস্তোগির মা-বাবা আদালতকে বলেন, সৌরভ রাজপুত খুব ভালো মানুষ ছিলেন। দোষীদের মৃত্যুদণ্ড দেয়া হলে তারা এর প্রতিবাদ করবেন না। মুসকানের পরিবার কারাগারে কখনও তার সঙ্গে দেখা করেনি।


পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩ মার্চ মুসকান রাস্তোগি তাঁদের ইন্দ্রা নগরের বাড়িতে খাবারের সঙ্গে ওষুধ মিশিয়ে স্বামী সৌরভ রাজপুতকে অচেতন করেন। এর কিছুক্ষণ পর সেখানে আসেন তার প্রেমিক সাহিল শুক্লা। পরে তারা দুজন মিলে ছুরিকাঘাতে রাজপুতকে হত্যা করেন এবং বাথরুমে তার মরদেহ খণ্ডবিখণ্ড করেন বলে প্রসিকিউশন জানিয়েছে।


তদন্তে উঠে আসে, মরদেহ পচে দুর্গন্ধ ছড়ানো ঠেকাতে তারা দেহের খণ্ডিত অংশগুলো একটি বড় নীল প্লাস্টিকের ড্রামে রাখেন। এরপর বালু, পানি ও সিমেন্টের ভেজা মিশ্রণ দিয়ে ড্রামটি ভরে সিল করে দেন।


হত্যার পরদিনই মুসকান ও সাহিল হিমাচল প্রদেশে পালিয়ে যান। এ সময় মুসকান সৌরভের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে তার পরিবারের সদস্যদের বার্তা পাঠাতে থাকেন। এতে সৌরভ জীবিত আছেন এবং ব্যবসার কাজে ভ্রমণ করছেন- এমন ধারণা তৈরি হয়।


২০২৫ সালের ১৭ মার্চ সন্দেহ হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সঙ্গে নিয়ে ওই বাড়িতে যান। সৌরভ ও মুসকানের ছয় বছর বয়সী মেয়ে প্রতিবেশীদের নাকি বলেছিল, ‘বাবা ড্রামের মধ্যে আছেন।’


পরে পুলিশ সিল করা নীল ড্রামটি কেটে খুলে ভেতরে রাজপুতের দেহাবশেষ খুঁজে পায়। এর দুই দিন পর অভিযান চালিয়ে মুসকান ও সাহিলকে গ্রেপ্তার করা হয়।


বিচার চলাকালে প্রসিকিউশন পরিস্থিতিগত, কারিগরি ও শারীরিক প্রমাণের ধারাবাহিকতা তুলে ধরে। স্থানীয় দোকানিরা সাক্ষ্য দেন, হত্যাকাণ্ডের আগে তারা মুসকান ও সাহিলের কাছে নির্দিষ্ট নীল প্লাস্টিকের ড্রাম, সিমেন্টের বস্তা, বালু, চাপাতি ও রেজর বিক্রি করেছিলেন।


কল ডিটেইল রেকর্ড এবং মোবাইল টাওয়ারের অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য থেকে অপরাধের সময় ঘটনাস্থলে সাহিলের উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া যায়। পাশাপাশি হিমাচল প্রদেশের শিমলা ও মানালিতে হোটেলে অবস্থানসহ দুজনের একসঙ্গে চলাচলের তথ্যও শনাক্ত করা হয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়, সৌরভ রাজপুতকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছিল।


 

🎁 Your Special Offer is Loading...

Please wait a moment. You'll be redirected automatically after the countdown.

15s

⏳ Stay here — your offer will open shortly.
✅ You can go back to this page anytime.

Comments

Popular posts from this blog

আর দেখা যাবে না গোলাম মাওলা রনিকে...see more

এটাই কি তাহলে আসল ঘটনা...Seemore

অবশেষে বেরিয়ে আসলো সত্য ঘটনা, সোহেল বলে আমি একা করি নাই আমার সা….see more