দৈনন্দিন ৬ অভ্যাস স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়, চিকিৎসকের সতর্কবার্তা..see more
দৈনন্দিন ৬ অভ্যাস স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়, চিকিৎসকের সতর্কবার্তা....see more
মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে স্ট্রোকের মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সাধারণত বয়স এবং উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস কিংবা উচ্চ কোলেস্টেরলের মতো শারীরিক জটিলতাগুলোকে এর জন্য দায়ী করা হলেও, আমাদের দৈনন্দিন কিছু জীবনযাত্রার অভ্যাসও স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুলাংশে বাড়িয়ে দেয়।এ বিষয়ে ভারতের বিশিষ্ট নিউরোলজিস্ট ডা. রীতু ঝা এক সাক্ষাৎকারে এমন ৬টি বদভ্যাসের কথা জানিয়েছেন, যা স্ট্রোকের আশঙ্কা বাড়িয়ে তোলে।দীর্ঘক্ষণ ধরে অলস বসে থাকা এবং নিয়মিত ব্যায়াম না করা স্ট্রোকের অন্যতম প্রধান কারণ। ডা. ঝা জানান, একটানা বসে থাকা ও কায়িক শ্রম না করার ফলে স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং অস্বাভাবিক কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি পায়—যার প্রতিটিই স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াতে সক্রিয় ভূমিকা রাখে। তাই স্ট্রোকের ঝুঁকি এড়াতে বয়স ও ফিটনেস অনুযায়ী দ্রুত হাঁটা, সাইকেল চালানো বা সাঁতারের মতো নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপে অভ্যস্ত হওয়া উচিত।
২. ধূমপানধূমপান স্ট্রোকের আরেকটি বড় জীবনযাত্রাগত ঝুঁকি। তামাকের রাসায়নিক উপাদানগুলো রক্তনালীর মারাত্মক ক্ষতি করে, রক্তনালীতে প্লাক বা চর্বি জমতে সাহায্য করে এবং রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা বাড়িয়ে দেয়।
এমনকি পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শেও আসা হৃদযন্ত্র ও রক্তনালীর স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তাই ধূমপান ছেড়ে দেওয়া হৃৎপিণ্ড ও রক্তনালীর সামগ্রিক সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত জরুরি।
আরও পড়ুন
থাইরয়েড ক্যানসারের ৫ লক্ষণ, অবহেলা করলেই বিপদ
থাইরয়েড ক্যানসারের ৫ লক্ষণ, অবহেলা করলেই বিপদ
Advertisement
৩. অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস
নিয়মিত অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস ধীরে ধীরে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত লবণ, ভাজাপোড়া, মিষ্টি পানীয় এবং স্যাচুরেটেড ও ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত খাবারকে অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস হিসেবে উল্লেখ করেছেন এই নিউরোলজিস্ট।
Advertisement
এ ধরনের খাবার উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা এবং অস্বাস্থ্যকর কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এর পরিবর্তে শাকসবজি, ফলমূল, গোটা শস্য, ডাল, বাদাম এবং কম প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
৪. অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবন
অতিরিক্ত মাত্রায় অ্যালকোহল সেবন রক্তচাপ বাড়িয়ে দিতে পারে। এ ছাড়া এটি কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ‘এট্রিয়াল ফিব্রিলেশন’-এর মতো অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের ঝুঁকি বাড়ায়, যা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে এবং ইস্কেমিক স্ট্রোকের কারণ হতে পারে।
তাই অ্যালকোহল গ্রহণের মাত্রা সীমিত করা এবং যারা বেশি পান করেন তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নিরাপদে তা কমানোর চেষ্টা করা উচিত।
৫. দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ ও ঘুমের ঘাটতি
দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপ, অপর্যাপ্ত ঘুম এবং ঘুমের নানা সমস্যা পরোক্ষভাবে রক্তচাপ, বিপাক প্রক্রিয়া ও হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
তাই নিয়মিত পর্যাপ্ত সময় ঘুমানো এবং দীর্ঘস্থায়ী ঘুমের সমস্যাগুলোর সঠিক চিকিৎসা করানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৬. সতর্কবার্তাগুলোকে অবহেলা করা
উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল বা অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের মতো সমস্যাগুলোর প্রাথমিক লক্ষণ বা সতর্কবার্তাগুলোকে অবহেলা করা এবং চিকিৎসা নিতে দেরি করা অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে।
ডা. ঝার মতে, স্ট্রোক প্রতিরোধ কেবল একটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে না; এর জন্য ব্যায়াম, ডায়েট, ধূমপান, অ্যালকোহল, ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতি একযোগে সমান মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
🎁 Your Special Offer is Loading...
Please wait a moment. You'll be redirected automatically after the countdown.
⏳ Stay here — your offer will open shortly.
✅ You can go back to this page anytime.

Comments
Post a Comment