পানি ছাড়াও কই ছাড়াও অনেক সময় বাঁচে যেভাবে....

 বাজার থেকে কিনে এনেছেন জ্যান্ত কই মাছ। ঘণ্টাখানেক পর বঁটি নিয়ে কাটতে বসেছেন, দেখলেন তখনো ও ব্যাটা মরেনি। এক লাফে থলে থেকে বেরিয়ে এসেছে! এমন অভিজ্ঞতা আমাদের মা-বোনদের প্রায়ই হয়। একটা বাংলা প্রবাদেই আছে ‘কই মাছের প্রাণ’, অর্থাৎ যা সহজে মরে না। কিন্তু কেন সহজে মরে না? অন্য কোনো মাছ হলে তো এতক্ষণে মরে হা হয়ে থাকত! কই মাছের রহস্যটা কী?অন্য মাছ কেন মরে যায়

কই মাছের রহস্যটা বোঝার আগে আমাদের বুঝতে হবে, সাধারণ মাছ ডাঙায় তুললে কেন মারা যায়। আমরা সবাই জানি, মাছ শ্বাস নেয় ফুলকা দিয়ে। পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন ফুলকার মধ্যে দিয়ে রক্তে মেশে। মনে প্রশ্ন আসতেই পারে, ডাঙায় তো অক্সিজেনের কোনো অভাব নেই, তাহলে মাছ কেন দ্রুত মরে যায়। ওদের তো আরও বেশি সময় বেঁচে থাকার কথা!


কিন্তু ঘটনা ঘটে উল্টো। পানি থেকে তুললেই বাতাসে সাধারণ মাছের ফুলকার পাতলা তন্তুগুলো শুকিয়ে যায় এবং একে অপরের গায়ে আঠার মতো লেপ্টে যায়। ফলে অক্সিজেন আর ভেতরে ঢুকতে পারে না। অর্থাৎ, বাতাসে অক্সিজেনের অভাব নেই ঠিকই, কিন্তু মাছের ওই চুপসে যাওয়া ফুলকা সেটা গ্রহণ করতে পারে না। শেষমেশ বেচারা মাছ দম আটকে মারা যায়।





পানি থেকে তুললেই বাতাসে সাধারণ মাছের ফুলকার পাতলা তন্তুগুলো শুকিয়ে যায় এবং একে অপরের গায়ে আঠার মতো লেপ্টে যায়। ফলে অক্সিজেন আর ভেতরে ঢুকতে পারে না।

কই মাছের গোপন রহস্য

কই মাছের ক্ষেত্রে প্রকৃতি এক অদ্ভুত ইঞ্জিন ফিট করে দিয়েছে। কই মাছের ফুলকার ঠিক ওপরে, মাথার দুপাশে একটি বিশেষ অতিরিক্ত শ্বাসযন্ত্র থাকে। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ল্যাবিরিন্থ অঙ্গ।


নামের মতোই এই অঙ্গটি দেখতে অনেকটা প্যাঁচানো গোলাপ ফুলের মতো। এটি অসংখ্য সূক্ষ্ম ভাঁজে পূর্ণ এবং রক্তনালিতে ভরপুর থাকে। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, এই অঙ্গটি আক্ষরিক অর্থেই আমাদের ফুসফুসের মতো কাজ করে!


পানিতে যখন অক্সিজেনের মাত্রা খুব কমে যায় বা কই মাছকে ডাঙায় তোলা হয়, তখন এরা ফুলকার পাশাপাশি ল্যাবিরিন্থ অঙ্গ ব্যবহার করে বাতাস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে। এরা সরাসরি মুখ দিয়ে বাইরের বাতাস গিলে নেয়। সেই বাতাস সোজা গিয়ে পৌঁছায় ওই ল্যাবিরিন্থ অঙ্গে। সেখানকার রক্তনালিগুলো বাতাস থেকে সরাসরি অক্সিজেন শুষে নিয়ে সারা শরীরে ছড়িয়ে দেয়। ঠিক এ কারণেই বাজারের শুকনো থলের ভেতর বা রান্নাঘরের মেঝেতে পড়ে থাকলেও কই মাছ দিব্যি বাইরের বাতাস থেকে অক্সিজেন নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বেঁচে থাকতে পারে।




পানিতে যখন অক্সিজেনের মাত্রা খুব কমে যায় বা কই মাছকে ডাঙায় তোলা হয়, তখন এরা ফুলকার পাশাপাশি ল্যাবিরিন্থ অঙ্গ ব্যবহার করে বাতাস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে।

তবে…

এখানেও একটা শর্ত আছে। কই মাছের এই ল্যাবিরিন্থ অঙ্গটি কাজ করার জন্য একে ভেজা বা আর্দ্র থাকতে হয়। চারপাশের পরিবেশ যদি খুব বেশি শুকনো হয় এবং মাছের শরীর পুরোপুরি শুকিয়ে কাঠ হয়ে যায়, তবে এই অঙ্গটিও কাজ করা বন্ধ করে দেয়। এ কারণেই কাদা-পানি, স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ বা ভেজা থলের ভেতর এরা সবচেয়ে ভালোভাবে টিকে থাকতে পারে।


শুধু ডাঙায় বেঁচে থাকাই নয়, কই মাছের আরও একটা চমকপ্রদ ক্ষমতা আছে। এরা ডাঙায় রীতিমতো হাঁটতে পারে! গ্রীষ্মকালে যখন কোনো পুকুর বা জলাশয় শুকিয়ে যায়, তখন এরা বৃষ্টির দিনে নিজেদের কানকো এবং বুকের কাছের পাখনা (পেক্টোরাল ফিন) ব্যবহার করে মাটির ওপর দিয়ে সাপের মতো এঁকেবেঁকে এক জলাশয় থেকে আরেক জলাশয়ে দিব্যি হেঁটে চলে যেতে পারে।


অন্যান্য মাছের সঙ্গে কই মাছের এই ছোট্ট পার্থক্যের কারণেই এরা সহজে মরে না।


সূত্র: নেচার ও সায়েন্স ডিরেক্ট ডটকম








০১ আগস্ট ২০কই মাছের গোপন রহস্য

কই মাছের ক্ষেত্রে প্রকৃতি এক অদ্ভুত ইঞ্জিন ফিট করে দিয়েছে। কই মাছের ফুলকার ঠিক ওপরে, মাথার দুপাশে একটি বিশেষ অতিরিক্ত শ্বাসযন্ত্র থাকে। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ল্যাবিরিন্থ অঙ্গ।


নামের মতোই এই অঙ্গটি দেখতে অনেকটা প্যাঁচানো গোলাপ ফুলের মতো। এটি অসংখ্য সূক্ষ্ম ভাঁজে পূর্ণ এবং রক্তনালিতে ভরপুর থাকে। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, এই অঙ্গটি আক্ষরিক অর্থেই আমাদের ফুসফুসের মতো কাজ করে!


পানিতে যখন অক্সিজেনের মাত্রা খুব কমে যায় বা কই মাছকে ডাঙায় তোলা হয়, তখন এরা ফুলকার পাশাপাশি ল্যাবিরিন্থ অঙ্গ ব্যবহার করে বাতাস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে। এরা সরাসরি মুখ দিয়ে বাইরের বাতাস গিলে নেয়। সেই বাতাস সোজা গিয়ে পৌঁছায় ওই ল্যাবিরিন্থ অঙ্গে। সেখানকার রক্তনালিগুলো বাতাস থেকে সরাসরি অক্সিজেন শুষে নিয়ে সারা শরীরে ছড়িয়ে দেয়। ঠিক এ কারণেই বাজারের শুকনো থলের ভেতর বা রান্নাঘরের মেঝেতে পড়ে থাকলেও কই মাছ দিব্যি বাইরের বাতাস থেকে অক্সিজেন নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বেঁচে থাকতে পারে।






পানিতে যখন অক্সিজেনের মাত্রা খুব কমে যায় বা কই মাছকে ডাঙায় তোলা হয়, তখন এরা ফুলকার পাশাপাশি ল্যাবিরিন্থ অঙ্গ ব্যবহার করে বাতাস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে।

তবে…

এখানেও একটা শর্ত আছে। কই মাছের এই ল্যাবিরিন্থ অঙ্গটি কাজ করার জন্য একে ভেজা বা আর্দ্র থাকতে হয়। চারপাশের পরিবেশ যদি খুব বেশি শুকনো হয় এবং মাছের শরীর পুরোপুরি শুকিয়ে কাঠ হয়ে যায়, তবে এই অঙ্গটিও কাজ করা বন্ধ করে দেয়। এ কারণেই কাদা-পানি, স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ বা ভেজা থলের ভেতর এরা সবচেয়ে ভালোভাবে টিকে থাকতে পারে।


শুধু ডাঙায় বেঁচে থাকাই নয়, কই মাছের আরও একটা চমকপ্রদ ক্ষমতা আছে। এরা ডাঙায় রীতিমতো হাঁটতে পারে! গ্রীষ্মকালে যখন কোনো পুকুর বা জলাশয় শুকিয়ে যায়, তখন এরা বৃষ্টির দিনে নিজেদের কানকো এবং বুকের কাছের পাখনা (পেক্টোরাল ফিন) ব্যবহার করে মাটির ওপর দিয়ে সাপের মতো এঁকেবেঁকে এক জলাশয় থেকে আরেক জলাশয়ে দিব্যি হেঁটে চলে যেতে পারে।


অন্যান্য মাছের সঙ্গে কই মাছের এই ছোট্ট পার্থক্যের কারণেই এরা সহজে মরে না।


সূত্র: নেচার ও সায়েন্স 

🎁 Your Special Offer is Loading...

Please wait a moment. You'll be redirected automatically after the countdown.

15s

⏳ Stay here — your offer will open shortly.
✅ You can go back to this page anytime.

Comments

Popular posts from this blog

আর দেখা যাবে না গোলাম মাওলা রনিকে...see more

এটাই কি তাহলে আসল ঘটনা...Seemore

অবশেষে বেরিয়ে আসলো সত্য ঘটনা, সোহেল বলে আমি একা করি নাই আমার সা….see more