বৃহস্পতিবার বঙ্গভবনের দরবার হলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে.....
বৃহস্পতিবার বঙ্গভবনের দরবার হলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে...
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তিনি কোনো দলীয় পরিচয় বা পক্ষপাতকে প্রাধান্য দেবেন না। দেশের কল্যাণ ও জনগণের স্বার্থকে সামনে রেখে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।বৃহস্পতিবার বঙ্গভবনের দরবার হলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে আয়োজিত নিজের প্রথম দরবারে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। দায়িত্ব গ্রহণের আগে দল, সংসদ ও মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি জানান, রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে আসার পর তিনি নিজেকে সম্পূর্ণ দলনিরপেক্ষ অবস্থানে নিয়ে এসেছেন। রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের পুরো সময় এই অবস্থান বজায় রাখার কথাও জানান তিনি।রাষ্ট্রপতি বলেন, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ, রাগ কিংবা অনুরাগ কোনো কিছুই প্রভাব ফেলবে না। দেশের স্বার্থ, রাষ্ট্রের কল্যাণ এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশাই তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে। যেকোনো পরিস্থিতিতে জনগণের আস্থা ধরে রাখতে সততা, নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।বঙ্গভবনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি দেশের প্রতি ভালোবাসা, জনগণের প্রতি সম্মান এবং রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য বজায় রাখার আহ্বান জানান। প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের পাশাপাশি কাজের ক্ষেত্রে সততা ও আন্তরিকতা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেনবঙ্গভবনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, এটি শুধু রাষ্ট্রপতির দাপ্তরিক বাসভবন নয়; রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও দেশের সার্বভৌমত্বেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। তাই এই প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য ও মর্যাদা রক্ষায় সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে গোপনীয়তার বিষয়টিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেন। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও সংবেদনশীল তথ্য যেন কোনোভাবেই অননুমোদিতভাবে প্রকাশ না হয়, সে বিষয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তার মতে, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গোপনীয়তা রক্ষা করা প্রত্যেক দায়িত্বশীল কর্মকর্তার গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য।
সরকারি অর্থ ব্যয়েরক্ষেত্রেও রাষ্ট্রপতি সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন। জনগণের অর্থে রাষ্ট্রের বিভিন্ন সম্পদ ও সুযোগ-সুবিধা পরিচালিত হয় উল্লেখ করে তিনি এসব সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। অপ্রয়োজনীয় ব্যয় ও অপচয় কমানোর পাশাপাশি সরকারি সম্পদ ব্যবহারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যক্তিগত জীবনেও শৃঙ্খলা বজায় রাখার পরামর্শ দেন রাষ্ট্রপতি। নৈতিক শক্তি বৃদ্ধি, সুন্দর চরিত্র গঠন এবং দায়িত্ববোধকে আরও দৃঢ় করার জন্য সবাইকে সচেষ্ট হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে স্বাধীনতার পর রাষ্ট্র পুনর্গঠনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অবদানের কথাও স্মরণ করেন। দেশের পূর্ববর্তী রাষ্ট্রপতিদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান তিবঙ্গভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতার ওপরও গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, সবাই একই প্রতিষ্ঠানের অংশ এবং পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে কাজের নানা সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। ভবিষ্যতেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে নিয়ে সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে একদিকে যেমন রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে নিরপেক্ষতার অঙ্গীকার উঠে এসেছে, অন্যদিকে বঙ্গভবনের শৃঙ্খলা, গোপনীয়তা, সরকারি সম্পদের সঠিক ব্যবহার এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নৈতিক দায়িত্বের বিষয়গুলোও গুরুত্ব পেয়েছে।
🎁 Your Special Offer is Loading...
Please wait a moment. You'll be redirected automatically after the countdown.
⏳ Stay here — your offer will open shortly.
✅ You can go back to this page anytime.

Comments
Post a Comment